Saturday, February 22, 2025

খুব সাবধানে থাকবেন

সামনের কিছুদিন একটু সাবধানে বেঁচে থাকেন। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে যাঁরা থাকেন, খুব সাবধানে থাকবেন।

আপনারা আমার প্রফাইল ঘুরলে দেখবেন, বেশ কিছুদিন ধরে দেশে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা অপরাধ আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছি, বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।
স্বাভাবিকভাবেই কেউ যদি একটা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন পড়ে থাকে, উক্ত বিষয়ে তার জ্ঞান অন্যান্যদের চেয়ে কিছুটা বেশিই হবে।
এই কদিনের বিশ্লেষণে আমি এক ভয়াবহ ব্যাপার লক্ষ্য করেছি। ব্যাপারটা এতটাই এলার্মিং আর সেন্সিটিভ যে, আমি তা প্রকাশ্যে বলতেও পারব না। আবার পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে বলাটাও ঠিক হবে না।
তবে এতটুকু নিশ্চিত থাকেন যে, আগামী কিছুদিন বড় বড় শহরগুলোতে অপরাধপ্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাবে। এখনই যা অবস্থা, এরচেয়ে আরও বাড়লে কি হবে তা কি আপনারা ভাবতে পারছেন?
আপাতত আমি আপনাদের কিছু পরামর্শ দিতে পারি নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে। যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগটা নিয়ে পড়ে আছি, আবার সম্প্রতি নিজে একটা ছিনতাইয়ের শিকার হলাম, তাই মোটামুটি আমার পরামর্শগুলো চোখ বন্ধ করে মেনে চলতে পারেন। লাভ না হলেও অন্তত ক্ষতি হবে না, এতটুকু বলতে পারি।
১. সন্ধ্যের পর খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ না থাকলে বের হবেন না।
২. রাতে দরজা, জানালা খুব ভালোভাবে চেক করে নেবেন, বন্ধ করেছেন কি না। দরজা বা জানালা কিংবা বারান্দায় দূর্বল কোনো স্ট্রাকচার থাকলে তা মেরামত করে নিন। ভালো সিকিউরিটিযুক্ত বাসায় থাকলে আপনার জানালা এবং বারান্দা সিকিউর করুন।
৩. এক দুই হাজারের বেশি ক্যাশ টাকা নিয়ে দিনে বা রাতে বাইরে হাঁটবেন না, সেটা যত স্বল্প দূরত্বেরই হোক না কেন। মোটামুটি পাঁচ হাজার টাকা পকেটে থাকলেও ওরা সামহাউ টের পেয়ে যায়।
৪. আপনার ব্যাংক কার্ড একান্তই প্রয়োজন না হলে সাথে রাখবেন না। কার্ডে যদি এনএফসি সার্ভিস এনাবল করা থাকে তবে ব্যাংকে কল করে তা বন্ধ করে নিন।
৫. দামী ফোন, ল্যাপটপ, প্যাড, ক্যামেরা বা অন্য কোনো দামী ডিভাইস নিয়ে বের হবেন না। আপাতত এগুলো বাসায় সিকিওরড জায়গায় রাখুন।
৬. মহিলারা দামী হোক, কমদামী হোক, কোনো গহনা পরে বের হবেন না। বিশেষ করে নাক এবং কানে তো নাই। নাক এবং কান ছিঁড়ে নিয়ে যাবার অসংখ্য রেকর্ড আছে।
৭. রাস্তায় ফোন বের করে টেপাটেপি করবেন না বা কথা বলবেন না।
৮. বাসে উঠলে জানালার পাশে না বসার চেষ্টা করবেন। জানালার পাশ বসুন বা না বসুন, পকেট থেকে ফোন বের করবেন না খবরদার।
প্রাইভেট কারে থাকলে কারের জানালা বন্ধ রাখুন, একটুও ফাঁকা রাখবেন না।
উবারে এ্যাপ থেকে কল দিয়ে যাবেন, ভুলেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছু লোক দামাদামি করে, ওদের সাথে রাইড নেবেন না।
৯. সিএনজিতে উঠলেও ফোন, ব্যাগ সাবধানে রাখুন। সিএনজির পর্দা কেটে ছিনতাই করতে দেখা গেছে অনেকগুলো।
১০. অপরচিত কারও সাথে একদম কথা বলবেন না।
১১. অপেক্ষাকৃত নির্জন রাস্তা দিয়ে কোনোভাবেই একা একা যাবেন না।
১২. যদি মনে হয় কেউ আপনাকে ফলো করছে, মানসম্মানের ভয় না করে দৌড়ে কোনো জনসমাগমে চলে যান।
১৩. ছিনতাইকারীরা আপনার ব্যাগ, পার্স, ডিভাইস বা মালামাল নিয়ে টানাটানি করলে ছেড়ে দিন। জোর করতে যাবেন না। ওরা আপনাকে মেরে ফেলতে এক সেকেন্ডও ভাবে না। ওরা মানুষ না। আপনার জিনিসের চাইতে আপনার জীবন মূল্যবান। বেঁচে থাকলে আবারও জিনিস ক্রয় করতে পারবেন।
১৪. কোনো ছিনতাইকারী আপনাকে ছিনতাই করে পালানোর সময় যদি তাকে চিনে ফেলেন, তবে ভুলেও বলতে যাবেন না, অমুক, তুই এই কাজ করলি? আপনি চিনে ফেলামাত্রই ওরা আপনাকে মেরে ফেলবে।
১৫. চিৎকার করে লোক ডেকে বা ৯৯৯ এ ফোন করে কোনো লাভ নেই। আমি নিজে এসব করে দেখেছি, কেউ আসে না। সবাই নীরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখে শুধু।
১৬. আপাতত এই পয়েন্টটাই লাস্ট। এটা ইচ্ছে করেই লাস্টে রেখেছি। এই পয়েন্ট অনেকে মানতে চাইবেন না, কেউ কেউ হেসে উড়িয়ে দেবেন, আবার কারও কারও কাছে ব্যাপারটা বিতর্কিত মনে হতে পারে-
"আপনার বাসা যদি ঢাকা বা বড় কোনো শহরে অপেক্ষাকৃত কম সিকিউরিটিযুক্ত এলাকায় হয় এবং আপনার বাসায় দেখতে মোটামুটি সুন্দর কোনো মেয়েলোক থাকে কিংবা মাঝবয়েসী থেকে অল্পবয়সী কোনো মেয়ে থাকে, আমার মতে আপাতত তাকে/তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। চুরি বা ছিনতাইয়ের সময় এরাও টার্গেট থাকে। মনে রাখবেন, আপনি চিৎকার করে মরে গেলেও পাশের বাসা থেকে একজনও বেরিয়ে আসবে না। সবাই বরং দরজা জানালা ভালো করে বন্ধ করে দেবে।"
লাস্ট পয়েন্টটা আমার বাড়াবাড়ি নয়। সম্প্রতি এমন ঘটনা দুয়েকটা ঘটতে দেখা গেছে।
আরেকটা কথা, রাতের বেলা দূর পাল্লার বাস, কার বা ট্রেন জার্নি করা থেকে বিরত থাকুন পারলে।
উপরোক্ত কথাগুলো আমি কাউকে আতংকিত করার জন্য বলিনি। নিজ অভিজ্ঞতা থেকে কিছু ঘটনা শেয়ার করলাম। এতে যদি একজনও উপকৃত হয়, এটাও বা কম কি!
সংগৃহীত

Friday, February 14, 2025

চাণক্যনীতি

বর্তমানের অনেক বিষয়ের প্রতিকারে প্র্রাচীন ভারতের চাণক্যনীতি-র বক্তব্য আজও কার্যকর



অফিস-রাজনীতির শিকার? পড়ুন, কী বলছে চাণক্যনীতি :

প্রাচীন ভারতে ‘অফিস রাজনীতি’ ছিল না, এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। মৌর্য যুগেই এক কঠোর কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভারতে চালু হয়। পরর্তী সময়ে গুপ্ত সম্রাটরা আরও বিস্তৃত প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলেন। সেই সঙ্গে বিস্তৃতি
অব্যাহত থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের। ফলে এই দেশে ‘অফিস জব’ যাকে বলে, তা সেই আমলেই ভাল পরিমাণেই ছিল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর এ কথা কে না জানে, অফিস থাকলেই অফিস পলিটিক্স-ও থাকে। সেই নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্তির সন্ধান রয়েছে ‘চাণক্যনীতি’-তে। ‘চাণক্যনীতি’-র ঐতিহাসিকতা নির্ণয় করার চেষ্টা করে লাভ নেই। এই নীতিবাক্য সমূহ যদি মহামতি কৌটিল্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্যের লেখা না-ও হয়, ক্ষতি নেই। এই বাণীসমূহকে প্রাচীন ভারতীয় গণ-প্রজ্ঞার প্রতিফলন হিসেবে দেখলে ভুল হবে না।

দেখা যাক অফিস-রাজনীতির প্রতিকারের বিষয়ে চাণক্যনীতি-র বক্তব্য কী।

• সততা বিষয়ে সাবধান। খুব বেশি সৎ হতে গেলে গেলে খেসারত দিতে হবে। সৎ ব্যক্তিরাই সবার আগে রাজনীতির শিকার হন।
• সততার সঙ্গে ধূর্ততার মিশেল ঘটানো একান্ত কাম্য। চোখ-কান খোলা রাখাটা তো আর অন্যায় নয়! অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। যখন সততার প্রয়োজন তখন সততা, আবার যেখানে ধূর্ততাই একমাত্র অনুসরণীয়, সেখানে সেটাই
অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত।
• কোনও কাজ শুরু করার আগে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন—
১. কেন এই কাজটি আপনি করছেন?
২. এর ফল কী হতে পারে?
৩. এটা কী ধরনের সাফল্য আনতে সক্ষম?

• কোন কাজটি আগে করবেন, সেটা সবার আগে ঠিক করুন। সেই সঙ্গে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন কাজে কতটা সময় আপনি দেবেন এবং কেন দেবেন।
• কোনও কাজ শুরু করলে ব্যর্থতার ভয় পেলে চলবে না। পিছিয়ে এলে আপনারই ক্ষতি।
• দফতরের গোপনীতা রক্ষা করুন। সব কথ সবাইকে বলার নয়। এমনকী, নিজের স্ত্রীকেও নয়।
• দফতরের গুজব থকে নিজেকে সরিয়ে রাখুন।
• দফতরের বন্ধুত্ব স্বার্থশূন্য হয় না, এটা মনে রাখবেন। সহকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেকে মিশুন।
• কোনও ভয় রেখে কাজ করবেন না। ভয় বা আশঙ্কা জাগ্রত হলেই তাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করুন।
• দেখা এবং শেখার চোখ সব সময়ে খোলা রাখুন।
• মনে রাখবেন, যে সাপ বিষধর নয়, সে-ও বিষধরের ভান করে।
• নিজের কাজের জায়গায় নিজেকে নমনীয় রাখুন।
• কোনও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে বোকা বানাতে যাবেন না। তাঁর সঙ্গে সহজ সম্পর্কই তৈরি করুন।
• নিজের ভুল নিজে স্বীকার করুন। ভুলগুলি থেকে শিক্ষা নিন।
• পর্যবেক্ষণ-ক্ষমতাকে বাড়ান। ব্যক্তি এবং ঘটনা— দুটোকেই তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে দেখুন।


কোন নারীকে বিবাহ করা অনুচিত? কী বলেছেন চাণক্য?
প্রতিটি সমাজেরই নিজস্ব কিছু কহন রয়েছে বিবাহ বিষয়ে। বাংলার এক প্রচীন প্রবাদই হল— লাখ কথার বিয়ে। এই লক্ষ কথা তো খরচ হয় পরিচয়ে। কিন্তু তার পরেও তো দেখা দেয় অশান্তি। সংসার বিষময় হয়ে ওঠে কেবলমাত্র ভুল বিবাহ-সিদ্ধান্তে। সমাজ সেই সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে খানিক ভাবনা-চিন্তার অবকাশ রাখতে বলেছে বিশ্বের সর্বত্র। আমাদের দেশেও ‘চাণক্য নীতি’ নামে পরিচিত কহন খোলাখুলি জানায় বিবাহ-সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে করণীয় বিষয়ে ভাবার বিষয়ে। কোন নারীর সঙ্গে বিবাহ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া উচিত হবে না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায় চাণক্য নীতি।

দেখা যেতে পারে হাজার বছর ধরে চলে আসা সেই বিধির কয়েক ঝলক।

• সুন্দরী কি সুন্দরী নন, এ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই চাণক্যর। তাঁর মতে কোনও নারীকে বিবাহ করার আগে তার অন্তরের হদিশ নেওয়াটা জরুরি। অন্তরের সৌন্দর্যই চানক্যের মতে শেষ কথা।
• বিবাহ করার আগে জেনে নিতে হবে সাত্রীর পরিবারের খুঁটনাটি। পরিবারের পরিচয়ই মেয়েটির প্রকৃত পরিচয়।
• রূঢ়ভাষী নারী থেকে বিবাহ-বিষয়ে দূরে থাকাই ভাল।
• সুন্দরী নারী, কিন্তু স্বভাব ছায়াচ্ছন্ন, এমন পাত্রীকে বিয়ে না করাই সাব্যস্ত।
• কোনও পরিস্থিতিতেই মিথ্যাবাদী স্ত্রীলোককে বিবাহ করা উচিত নয়।
• হবু স্ত্রী কতটা বিশ্বাসযোগ্যা, তা জেনে নেওয়াটা প্রাথমিক কর্তব্য।
• যে নারী গৃহকর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ, তার বিবাহ না করাই উচিত। আজকের দিনে উপদেশটা গায়ে লাগার মতো। তবে চাণক্যের যুগে ব্যাপারটা অপরিহার্য ছিল।
• নাস্তিক স্ত্রীলোককে কিছুতেই বিবাহ করা যাবে না।

সঠিক বন্ধু আর মেকি বন্ধুর ফারাক কোথায়? কী বলছে চাণক্য-নীতি?

ভারতীয় গণমানসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে যদি চাণক্য-নীতিকে ধরা হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা এক সামূহিক স্মৃতির কথা বলে। এই স্মৃতি এই উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই স্মৃতিই আমাদের কর্তব্য-অকর্তব্যের দিশারী হয়ে দাঁড়ায় কখনও কখনও। তাকে চাণক্য-নীতির মতো আপ্তবাক্যের স্তরে নিয়ে যায় গণচৈতন্যই। চাণক্য যদি এই কথাগুলি না-ও বলে থাকেন, তা হলেও কিছু যায়-আসে না। এই ‘চাণক্য’ আসলে ইতিহাসের নিজস্ব কণ্ঠস্বর।

চাণক্য বন্ধু ও শত্রুর ভেদকে চিহ্নিত করার উপায় বাৎলেছিলেন। সেই সঙ্গে এ-ও বলেছিলেন, কীভাবে চিনতে হয় প্রকৃত বন্ধুকে। এই পদ্ধতির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল, কে প্রকৃত বন্ধু আর কে মেকি মিত্র, সেটা নির্ণয় করা। চাণক্য-নীতি সেই বিষয়ে বিশদ আলোকপাত করে। জেনে নেওয়া যাক, কী বক্তব্য এই প্রাচীন শাস্ত্রের।

• প্রকৃত বন্ধুর সবথেকে বড় লক্ষণ হল, তার স্বার্থহীনতা। লক্ষ রাখতে হবে, বন্ধু হিসেবে সে কতটা আত্মত্যাগপ্রবণ। লক্ষ্য রাখতে হবে, সে সকলের প্রতিই সমান যত্নশীল কি না। এমন মানুষকে নিশ্চিন্তে বিশ্বাস করা চলে।
• লক্ষ রাখুন, আপনার বন্ধু কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে কোনও কিছু না জেনেই মতামত তৈরি করে ফেলেন কি না। লক্ষ করতে হবে, তিনি তাঁর মতামত দ্রুত বদলে ফেলেন কি না। এবং এই মতামত কতটা সঠিক সেটা বিচার করে দেখতে হবে। সহজে মত বদলান, এমন বন্ধু থেকে সাবধান থাকাটাই শ্রেয়।
• জানার চেষ্টা করুন, আপনার বন্ধু কাদের সঙ্গে সময় কাটান। একজন মানুষের সঙ্গই তাঁর চরিত্রের আয়না। এ-ও লক্ষ করতে হবে, যাঁদের সঙ্গে সেই ব্যক্তি সময় কাটান, তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি তাঁদের সম্পর্কে কী মন্তব্য করেন। যদি তা সদর্থক হয়, তাহলে বুঝতে হবে তিনি বিশ্বাসযোগ্য।
• লক্ষ রাখতে হবে, বন্ধুটি বাক-সংযমী কি না। আত্মবিজ্ঞাপনকারী ব্যক্তি থেকে দূরে থাকাটাই কর্তব্য।    

শত্রুর দাপটে দিশেহারা? জেনে নিন কী বলছে চাণক্য-নীতি

চাণক্য-নীতির প্রাসঙ্গিকতা আজও প্রশ্নাতীত। কৌটিল্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্য স্বয়ং এই নীতি রচনা করেছিলেন কি না, সে কথা অবান্তর। এই নীতিমালায় আসলে প্রতিফলিত হয়েছে শত শত বছরের ভারতীয় প্রজ্ঞা। যে কোনও সংকটে, যেকোনও সমস্যায় চাণক্যনীতির সরামর্শ রয়েছে। কোনও বিশেষ কালের প্রেক্ষিতে এই নীতীমালাকে দেখা যাবে না। আজ, এই কর্পোরেট-বিশ্বেও চাণক্য-নীতি সমান কার্যকর বলেই মনে করেন ম্যনেজমেন্ট গুরুরা।

শত্রুতা সভ্যতায় এক অবশ্যম্ভাবী ব্যাপার। কোথা থেকে এবং কী করে শত্রুর উদয় ঘটে জীবনে, তা সব সময়ে বোঝা সম্ভব নয়। জীবনের কোনও বিশেষ পর্বে এসে দেখা যায়, তীব্র সব শত্রুতার শিকার হতে হচ্ছে। কখনও প্রতিদ্বন্দিতা, কখনও যৌন ঈর্ষা, কখনও বা বিনা কারণেই শত্রুতা মাথা চাড়া দেয়। শত্রু এবং শত্রুতা বিষয়ে চাণক্য-নীতি কী বলছে দেখা যাক।

• প্রতিটি সম্পর্কের পিছনে কোনও না কোনও উদ্দেশ্য কাজ করে। উদ্দেশ্যশূন্য সম্পর্ক হতে পারে না। বন্ধুত্ব এবং শত্রুতাও কোনও না কোনও উদ্দেশ্য দ্বারা প্রণোদিত। শত্রুতার ক্ষেত্রে সেই উদ্দেশ্যটিকে বোঝার চেষ্টা করুন।
• শত্রুর ক্ষমতার সীমা রয়েছে। তারও দুর্বলতা রয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত শত্রুর দুর্বল দিকগুলি জানতে পারছেন, ততক্ষণ শত্রুর সঙ্গে সংঘাতে না-যাওয়াই ভাল। দুর্বলতা জানা গেলে তার সঙ্গে সংঘাতে যাওয়া যেতে পারে।
• শত্রুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়তেই পারেন। হারের সম্ভাবনা দেখা দিলেই সন্ধির চেষ্টা করতে হবে বলে জানাচ্ছে চাণক্য-নীতি। নিজের দুর্বলতাকে ঢাকা দিতে সন্ধি সব থেকে সম্মানজনক ব্যবস্থা।
• শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ করা কর্তব্য। রাষ্ট্রের জন্য এমন ক্ষেত্রে কড়া গুপ্তচর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে চাণক্য-নীতিতে। আর ব্যক্তিগত স্তরে প্রয়োজন সতর্কতার, একথাও বলছে চাণক্য-নীতি।


যে ৬টি প্রাণীর ঘুম কখনও ভাঙাতে নেই, কী বলছে চাণক্যনীতি ?



ভারতে প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত নৈতিক উপদেশাবলি ‘চাণক্য নীতি’ সত্যিই ‘অর্থশাস্ত্রট প্রণেতা কৌটিল্য বিষ্ণুগুপ্ত চাণক্যের লেখা কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পার। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, ‘চাণক্য নীতি’ নামে পরিচিত নৈতিক উপদেশগুলি যথার্থই প্রাচীন। এই উপদেশগুলি আজ, এই কর্পোরেট-শাসিত বিশ্বেও দারুণভাবে সচল, একথা অনেকেই বলে থাকেন। আসলে ‘চাণক্য নীতি’ দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা গণস্মৃতির একটি দলিল। এতে যা রয়েছে, তা মানব সভ্যতারই অভিজ্ঞতার ফসল।

‘চাণক্য নীতি’-তে বহু সাবধানবাণীই উল্লিখিত রয়েছে। তার মধ্যে একটি ঘুমন্ত প্রাণী সংক্রান্ত। এখানে চাণক্য কয়েকটি ঘুমন্ত প্রাণীকে না-জাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ‘প্রাণী’-রা হয়তো প্রতীক। কিন্তু চাণক্য প্রণিধানযোগ্য। দেখা যাক কী রয়েছে এই সংক্রান্ত উপদেশে।

১. সাপকে কখনও জাগাতে নেই। কারণ, ঘুম ভাঙলেই সে ছোবল মারতে পারে।
২. ঘুমন্ত রাজার ঘুম কখনও ভাঙাতে নেই। তা হলে রাজরোষে পড়তে হয়।
৩. সিংহের ঘুম ভাঙালে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিপুল।
৪. সরিসৃপের ঘুম ভাঙালে সমস্যা অনেক। তিতবিরক্ত হতে পারেন তার দ্বারা।
৫. শিশুদের ঘুম ভাঙাতে নেই। কারণ, ঘুমের ভিতরেই তারা বেড়ে ওঠে।
৬. বোকাদের ঘুমোতে দেওয়াই কাম্য। তারা জেগে থাকলে অনর্থের সম্ভাবনা।



চাণক্য নীতি দর্পণ সারাংশ:
১) যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত।
২) সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর। সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে। তহবিল তসরুপ বা অর্থ আত্মসাতের চল্লিশটি পদ্ধতি আছে। জিহ্বা’র ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয়, তেমনি কোন রাজ কর্মচারীর পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার। জলের নিচে মাছের গতিবিধি যেমন জল পান করে বা পান না করেও বোঝা সম্ভব নয়, অনুরূপ রাজ কর্মচারীর তহবিল তসরুপও দেখা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতেও পাখির উড্ডয়ন দেখা সম্ভব, কিন্তু রাজ কর্মচারীর গোপন কার্যকলাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সমভাবে অসম্ভব।”
৩) বিষ থেকে সুধা, নোংরা স্থান থেকে সোনা, নিচ কারো থেকে জ্ঞান এবং নিচু পরিবার থেকে শুভলক্ষণা স্ত্রী – এসব গ্রহণ করা সঙ্গত।
৪) মনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয়। এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিত।
৫) যারা পরিশ্রমী, তাদের জন্যে কোনকিছুই জয় করা অসাধ্য কিছু নয়। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্যে কোন দেশই বিদেশ নয়। মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেই।
৬) বিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায়। অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করে।
৭) মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন।

কী বুঝলেন? সেই তেইশ শত বছর আগের উপদেশ এগুলো! একটাও আজ ভুল প্রমাণিত হয়েছে? নাকি আরও বেশী প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনে?

এবার আসা যাক তার রচিত বিভিন্ন শ্লোক বা উপদেশ প্রসঙ্গে-

চাণক্য শ্লোক:
১) অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না।
২) অধমেরা ধন চায়, মধ্যমেরা ধন ও মান চায়। উত্তমেরা শুধু মান চায়। মানই মহতের ধন।
৩) অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না, হাতা যেমন রন্ধন-রস জানে না।
৪) অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না, মলয়-পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না।
৫) অবহেলায় কর্মনাশ হয়, যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয়, যাচ্ঞায় সম্মান-নাশ হয়, দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়।
৬) অভ্যাসহীন বিদ্যা, অজীর্ণে ভোজন, দরিদ্রের সভায় কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য।
৭) অহংকারের মত শত্রু নেই।
৮) আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায়, কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতি-কর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়।
৯) আদর দেওয়ার অনেক দোষ, শাসন করার অনেক গুণ, তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার, আদর দেওয়া নয়।
১০) আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম, তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ, যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়।
১১) আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায়, কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে, যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ, তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।
১২) ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়।
১৩) উপায়জ্ঞ মানুষের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য।
১৪) উৎসবে, বিপদে, দুর্ভিক্ষে, শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে, রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে, সে-ই প্রকৃত বন্ধু।
১৫) ঋণ, অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই, কারণ তারা আবার বেড়ে যেতে পারে।
১৬) একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে।
১৭) একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয়, তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়।
১৮) একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয়, তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়।
১৯) একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল। একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে, সকল তারা মিলেও তা পারে না।
২০) কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর।
২১) খেয়ে যার হজম হয়, ব্যাধি তার দূরে রয়।
২২) গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়।
২৩) গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না। নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয়, তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন।
২৪) গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন, তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই, যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে।
২৫) গৃহে যার মা নেই, স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভাল, কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই।
২৬) চন্দন তরুকে ছেদন করলেও সে সুগন্ধ ত্যাগ করে না, যন্ত্রে ইক্ষু নিপিষ্ট হলেও মধুরতা ত্যাগ করে না, যে সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও সে চরিত্রগুণ ত্যাগ করে না।
২৭) তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয়: নিজের পত্নীতে, ভোজনে এবং ধনে। কিন্তু অধ্যয়ন, জপ, আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে।
২৮) দারিদ্র্য, রোগ, দুঃখ, বন্ধন এবং বিপদ- সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল।
২৯) দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ করে সজ্জনের সঙ্গ করবে। অহোরাত্র পুণ্য করবে, সর্বদা নশ্বরতার কথা মনে রাখবে।
৩০) দুর্বলের বল রাজা, শিশুর বল কান্না, মূর্খের বল নীরবতা, চোরের মিথ্যাই বল।
৩১) দুষ্টা স্ত্রী, প্রবঞ্চক বন্ধু, দুর্মুখ ভৃত্য এবং সর্প-গৃহে বাস মৃত্যুর দ্বার, এ-বিষয়ে সংশয় নেই।
৩২) ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়।
৩৩) নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না, নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না।
৩৪) পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে, অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে, সে-ই যথার্থ জ্ঞানী।
৩৫) পাপীরা বিক্ষোভের ভয় করে না।
৩৬) পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে, দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে, ষোল বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে।
৩৭) পুত্র যদি হয় গুণবান, পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান।
৩৮) পুত্রকে যারা পড়ান না, সেই পিতামাতা তার শত্রু। হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না।
৩৯) বইয়ে থাকা বিদ্যা, পরের হাতে থাকা ধন একইরকম। প্রয়োজন কালে তা বিদ্যাই নয়, ধনই নয়।
৪০) বিদ্বান সকল গুণের আধার, অজ্ঞ সকল দোষের আকর। তাই হাজার মূর্খের চেয়ে একজন বিদ্বান অনেক কাম্য।
৪১) বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এ-দুটি কখনও সমান হয় না। রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত, বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত।
৪২) বিদ্যা ব্যতীত জীবন ব্যর্থ, কুকুরের লেজ যেমন ব্যর্থ, তা দিয়ে সে গুহ্য-অঙ্গও গোপন করতে পারে না, মশাও তাড়াতে পারে না।
৪৩) বিদ্যাভূষিত হলেও দুর্জনকে ত্যাগ করবে, মণিভূষিত হলেও সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়?
৪৪) বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই, ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই। সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই, দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই।
৪৫) বিনয়ই সকলের ভূষণ।
৪৬) বিষ থেকেও অমৃত আহরণ করা চলে, মলাদি থেকেও স্বর্ণ আহরণ করা যায়, নীচজাতি থেকেও বিদ্যা আহরণ করা যায়, নীচকুল থেকেও স্ত্রীরত্ন গ্রহণ করা যায়।
৪৭) ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়।
৪৮) মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়।
৪৯) যশবানের বিনাশ নেই।
৫০) যারা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন, তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান।
৫১) যে অলস, অলব্ধ-লাভ তার হয় না।
৫২) যে গাভী দুধ দেয় না, গর্ভ ধারণও করে না, সে গাভী দিয়ে কী হবে! যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয়, সে পুত্র দিয়ে কী হবে!
৫৩) রাতের ভূষণ চাঁদ, নারীর ভূষণ পতি, পৃথিবীর ভূষণ রাজা, কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ।
৫৪) শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি।
৫৫) সত্যনিষ্ঠ লোকের অপ্রাপ্য কিছুই নাই।
৫৬) সত্যবাক্য দুর্লভ, হিতকারী-পুত্র দুর্লভ, সমমনস্কা-পত্নী দুর্লভ, প্রিয়স্বজনও তেমনি দুর্লভ।
৫৭) সাপ নিষ্ঠুর খলও নিষ্ঠুর, কিন্তু সাপের চেয়ে খল বেশি নিষ্ঠুর। সাপকে মন্ত্র বা ওষধি দিয়ে বশ করা যায়, কিন্তু খলকে কে বশ করতে পারে?
৫৮) সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভাল, যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা, কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়।
৫৯) হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে, ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে, শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে। অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবে।

সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে, “দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুতুল্য।” অন্যদিকে চাণক্য ছিলেন দক্ষ পরিকল্পনাবিদ। সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন অটল এবং অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিল না তার কাছে। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোর।

কি বুঝলেন?

==================
প্রশ্নঃ কাম ও যৌনতা কে মানব-জীবনের চির শক্র বলা হয় কেন----?
উত্তরঃ মনুস্মৃতিতে বলা হয়েছে যে, ঘি ঢেলে যেমন আগুনকে কখনও নেভানো যায় না, তেমনই কাম উপভোগের দ্বারা কখনই কামের নিবৃত্ত হয় না। জড় জগতে সমস্ত কিছুর কেন্দ্র হচ্ছে যৌন আকর্ষণ, তাই জড় জগৎকে বলা হয় ' মৈথুনাগার' অথবা যৌন জীবনের শিকল। আমরা দেখছি, অপরাধ করলে মানুষ কারাগারে আবদ্ধ হয়, তেমনই, যারা ভগবানের আইন অমান্য করে,তারাও যৌন জীবনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে এই মৈথুনাগারে পতিত হয়। ইন্দ্রিয়-তৃপ্তিকে কেন্দ্র করে জড় সভ্যতার উন্নতি লাভের অর্থ হচ্ছে, বদ্ধ জীবদের জড় অস্তিত্বের বন্দীদশার মেয়াদ বৃদ্ধি করা। তাই, এই কাম হচ্ছে অজ্ঞানতার প্রতীক, যার দ্বারা জীবদের এই জড় জগতে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধন করার সময় সাময়িকভাবে সুখের অনুভূতি হতে পারে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই তথাকথিত সুখই হচ্ছে জীবের পরম শক্র।

===========================

চানক্য-পণ্ডিতের কৌটিল্য-তত্ত্ব ইতিহাসের টেরাকোটায়

‘মন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীন।’
এই দুর্দান্ত উক্তিটির বয়স দু’হাজার বছরেরও বেশি, প্রায় আড়াই হাজার বছর। এটা চানক্য-শ্লোক বা বাণী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কথাটা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য ? যদি বলি এর বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য ? একযোগে হামলে পড়বেন অনেকেই। বিশ্বাসযোগ্যই যদি না হবে তো আড়াই হাজার বছর পেরিয়ে এসেও কথাটা এমন টনটনে থাকলো কী করে ! আসলেই তা-ই। কথাটায় একবিন্দুও ফাঁকি দেখি না। হয়তো আমরাই মানি না বলে। অথবা অক্ষরে অক্ষরে এতোটাই মেনে চলি যে, জানান দেবার আর বাকি থাকে না- আমাদের মনটাই ফাঁকি, ওখানে খাঁটি বলে কিছু নেই। আর এজন্যেই কি পবিত্র স্থানে গমনের জন্য হুমড়ি খেয়ে আমাদের মধ্যে এমন হুড়োহুড়ি লেগে যায় ? অসুস্থ হলে যেমন আমরা হন্যে হয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটি, এটাও সেরকম। খোশগল্প করার নিয়ত না হলে সুস্থাবস্থায় কেউ কি ডাক্তারের কাছে যান !

চানক্যের আরো কিছু বাণী-
"বিষ থেকে সুধা, নোংরা স্থান থেকে সোনা, নিচ কারো থেকে ভালো এবং নিচু পরিবার থেকে শুভ-লক্ষণা স্ত্রী- এসব গ্রহণ করা সঙ্গত।”
"মনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয়। এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিত।”
"যারা পরিশ্রমী, তাদের জন্য কোনকিছু হাসিল করা অসাধ্য কিছু নয়। শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্য কোন দেশই বিদেশ নয়। মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেই।”
"বিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায়। অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করে।”

বাণী চিরন্তনী জাতীয় কোন গ্রন্থ না হলেও (kautilya) কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ চানক্যের (chanakya) এরকম অমর বাণী নিশ্চয়ই অপর্যাপ্ত নয়। তা হবার কথাও নয়। কেননা প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে তিনি তাঁর কালজয়ী সংস্কৃত গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্রে’ (Arthashastra) কিভাবে একজন শাসককে আরো ভূখণ্ড ও মূল্যবান সম্পদ নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করে তাঁর প্রজাদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও জীবনমান উন্নত করার জন্য কাজ করতে হবে তা লিপিবদ্ধ করেন। নামে অর্থশাস্ত্র হলেও গ্রন্থটি মূলত শাসকের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি বিষয়ক কৌশলের পরামর্শ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাজ্য শাসনের এতোবড়ো গুরুদায়িত্ব পালনের ফাঁকে শাসক-সম্রাটরা কি আদৌ তা পড়তেন বা পড়ার সময় পেতেন ? নিশ্চয়ই পড়তেন। সাম্রাজ্য-শাসক হিসেবে অত্যন্ত পরাক্রমশালী হলেও তাঁদের হয়তো এই বোধটুকু অন্তত ছিলো যে জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান শাসকদের মতো এতো মহাপরাক্রমশালী তাঁরা ছিলেন না। রাজদরবারগুলোতে তাই তৎকালীন জ্ঞানীগুণী ও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী পণ্ডিতদের আনাগোনা থাকতো বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।

উদাহরণ হিসেবে আমরা জানি যে, গুপ্ত বংশের বিখ্যাত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত যিনি বিক্রমাদিত্য নামেই সমধিক পরিচিত, তাঁর নবরত্ন সভার নয়জন রত্ন ছিলেন- (১) ধন্বন্তরি (২) ক্ষপণক (৩) অমরসিংহ (৪) শঙ্কু (৫) বেতালভট্ট (৬) ঘটকর্পর (৭) কালিদাস (৮) বরাহমিহির (৯) বররুচি। আর এ তথ্য পাই আমরা মহাকবি কালিদাসের (kalidasa) বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ ‘জ্যোতির্বিদ্যাভরণ’-এর একটি সংস্কৃত শ্লোকে-
"ধন্বন্তরি-ক্ষপণকামরসিংহ-শঙ্কু-বেতালভট্ট-ঘটকর্পর-কালিদাসাঃ খ্যাতোবরাহমিহিরোনৃপতেঃ সভায়ং রত্নানি বৈ বররুচির্ণব বিক্রমস্য।”

কিন্তু এযাবৎ যতজন পণ্ডিত-রত্নের কথা আমরা জানি, তাঁদের মধ্যে চানক্য-পণ্ডিতকেই সবচাইতে প্রতিভাবান ও বাস্তববাদী বলে মনে হয়। তাঁর অবস্থিতিকাল কালিদাস যুগেরও আগে। দার্শনিক প্রজ্ঞা আর কূটনৈতিক পরিকল্পনায় সিদ্ধহস্ত এই অসাধারণ প্রতিভাধর পণ্ডিত চানক্যের পিতৃপ্রদত্ত নাম ছিলো (vishnugupta) বিষ্ণুগুপ্ত (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০- খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৩)। কিন্তু জন্মগ্রাম ‘চানকা’ থেকে, মতান্তরে পিতার নাম 'চানক' থেকে, ‘চানক্য পণ্ডিত’ হিসেবেই তিনি ব্যাপক পরিচিত হয়ে ওঠেন সর্বত্র।

উপমহাদেশের উচ্চতর জ্ঞান আহরণের প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপিঠ যেখানে, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে বর্তমান পাকিস্তানের সেই তক্ষশীলায় তাঁর জন্ম এবং পরবর্তীতে তক্ষশীলা বিদ্যাপিঠেই একজন শিক্ষাগুরু হিসেবে ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে সেখানকার পরিবেশ তাঁর সহজাত প্রতিভাকে করে তুলেছে ক্ষুরধার প্রজ্ঞায় উজ্জ্বল। ‘কূটিলা গোত্র’ থেকে উদ্ভুত ছিলেন বলে পরবর্তীতে গোত্র নামটিকে টিকিয়ে রাখার সদিচ্ছা থেকে ‘কৌটিল্য’ ছদ্মনাম ধারণ করে লিপিবদ্ধ করেন তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’। কিন্তু এই ‘অর্থশাস্ত্র’ তো আর এমনি এমনি লিখিত হয়নি। এর পেছনের যে ইতিহাস, সেখানেই রয়ে গেছে একজন চানক্য পণ্ডিত বিষ্ণুগুপ্তের কৌটিল্য হয়ে ওঠার ঘটনাবহুল পটভূমি।

কিংবদন্তী আছে, মগধ রাজ্যের পরাক্রমশালী নন্দ বংশের শেষ রাজা, যিনি তার অন্যায় শাসনের জন্য প্রজাসাধারণের কাছে ভীষণ অপ্রিয় ছিলেন, একবার চানক্যকে অপমান করেন। চানক্য এই অপমানের প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। এদিকে নন্দ রাজার পদস্থ ও উচ্চাভিলাষী তরুণ সামরিক কর্মকর্তা চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র করেন। কিন্তু ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে প্রাণ বাঁচাতে তাকে বিন্ধালের জঙ্গলে পলাতক ও নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হয়। ঘটনাচক্রে চানক্যের সাথে চন্দ্রগুপ্তের সাক্ষাৎ ঘটে। এই সাক্ষাতের ক্ষণলগ্নই যে একটা বিশাল জাতিগোষ্ঠির ভাগ্যচাকার মোড় ঘুরিয়ে চিরকালের নতুন বাঁক তৈরি করে দেবে তা কে জানতো। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চানক্যকে গুরু, উপদেষ্টা ও মন্ত্রণাদাতা হিসেবে মেনে নেন। অতঃপর চানক্যের সক্রিয় সহযোগিতায় চন্দ্রগুপ্ত একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন এবং গুরুর সুনিপুণ পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়ে শেষপর্যন্ত নন্দরাজাকে সিংহাসনচ্যুত করতে সক্ষম হন। মগধের সিংহাসনে আরোহণ করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এই চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য়েরই দ্বিতীয় পুরুষ হচ্ছেন বিন্দুসারা এবং তৃতীয় প্রজন্ম আরেক প্রতাপশালী শাসক সম্রাট অশোক।

শক্তিশালী নন্দ বংশের শাসন উৎখাতের পেছনে চানক্যের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কুশলী কর্মকাণ্ড অসাধারণ কৃতিত্ব হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আছে। এবং তাঁর অবদানেই সম্রাট অশোকের পিতামহ (chandragupta) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে উপমহাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পঞ্চম শতাব্দিতে রচিত প্রাচীন নাট্যকার বিশাখা দত্তের শতশত বছর জুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাজনৈতিক নাটক ‘মুদ্রারাক্ষস’-এ নন্দবংশকে ক্ষমতাচ্যুত করে চন্দ্রগুপ্তের বিশাল মৌর্যসাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

তবে এতৎবিষয়ক তথ্যসূত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে যেটিকে বিবেচনা করা হয়, তা হলো গ্রীক দূত মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ (Indica)। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে মেগাস্থিনিস (Megasthenes) চন্দ্রগুপ্তের দরবারে অবস্থান করে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করেন বলে জানা যায়। এখান থেকেই জানা যায় চন্দ্রগুপ্ত মগধের সিংহাসনে আরোহন করেই পাটালিপুত্রকে তার রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত করেন। বিহারের আধুনিক শহর পাটনার কাছেই ছিলো পাটালিপুত্রের অবস্থান। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২৯৮ সাল পর্যন্ত চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে সমগ্র রাজ্য জুড়ে শান্তি বিরাজমান ছিলো। প্রজাদের প্রতি ন্যায়পরায়ণ রাজা হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিলো এবং রাজ্য বিকশিত হয়েছিলো সমৃদ্ধিতে। আর এগুলো সম্ভব হয়েছিলো চন্দ্রগুপ্তের জীবনে স্বর্গীয় দূতের মতো অভিভাবক হয়ে আসা সত্যিকারের বন্ধু, দার্শনিক ও গুরু চানক্যের কারণে।

জানা যায়, এর আগে মহামতি আলেকজান্ডারের আকস্মিক মৃত্যুতে গ্রিক শাসনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে যে বিদ্রোহের সূচনা হয়, গুরু চানক্যের পরামর্শে এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে পরাজিত করেন এবং পাঞ্জাবকে নিজ শাসনাধীনে আনেন। পরবর্তীতে পশ্চিম ভারতের সকল রাজ্য একে একে জয় করে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন চন্দ্রগুপ্ত। এই বিশাল সাম্রাজ্য দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য তিনি একটি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করে চানক্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।

চন্দ্রগুপ্তের অতি-নির্ভরযোগ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদে বিলাসবহুল জীবন যাপনের অবারিত সুযোগ থাকার পরও, কথিত আছে যে, চানক্য এক শ্মশানবর্তী খুব সাধারণ একটি কুঁড়েঘরে নির্মোহ সন্ন্যাস জীবন-যাপন করতেন। ওখানে থেকেই বিশ্বস্ততার সাথে রাজপ্রদত্ত দায়িত্বপালনের পাশাপাশি শিষ্যবর্গকে রাজ্যশাসন কৌশল শিক্ষাসহ নৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ে জ্ঞান দান করতেন। এসব বিষয়ের কিছু কিছু তাঁর অন্যান্য বিবরণীতে সংগৃহিত হয়েছে। এ ধরনের একটি সংকলন- ‘চানক্য নীতি দর্পণ’। দু’হাজারেরও অধিক বছরের কাল পরিক্রমায় এসেও চানক্য নীতি শ্লোকগুলো এখনো যে গুরুত্বহীন হয়ে যায়নি, এখানেই ধর্ম, দর্শন, নীতিশাস্ত্র, সামাজিক আচরণ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে চানক্যের অভূতপূর্ব দার্শনিক প্রাজ্ঞতা প্রমাণীত। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে অসাধারণ দক্ষ পরিকল্পনাবিদ হিসেবে চানক্যের খ্যাতি অপরিমেয়। সিদ্ধান্তে অটলস্বভাবী তাঁর কাছে অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিলো না। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোর।

কালজয়ী গ্রন্থ কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রে’ শাসকের প্রতি পরামর্শ হিসেবে চানক্যের কিছু বাণীকে দু’হাজার বছরের এতো দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসে এখনো অসম্ভব সমকালীন মনে হয়-
"যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত।”

"সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর। সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে। তহবিল তসরূপ বা অর্থ আত্মসাতের চব্বিশটি পদ্ধতি আছে। জিহ্বার ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয়, তেমনি কোন রাজ কর্মচারির পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার। জলের নিচে মাছের গতিবিধি যেমন জল পান করে বা পান না করেও বোঝা সম্ভব নয়, অনুরূপ রাজ কর্মচারির তহবিল তসরূপও দেখা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতেও পাখির উড্ডয়ন দেখা সম্ভব; কিন্তু রাজকর্মচারির গোপন কার্যকলাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সমভাবে অসম্ভব।”

যুগে যুগে প্রজাবৎসল শাসককূলের উত্তম শাসনকার্যের সবচাইতে প্রাচীন ও অসাধারণ সহায়িকা হিসেবে রচিত ধর্ম-দর্শন-ন্যায়পরায়ণতা-কূটনীতি-অর্থনীতি-রাষ্ট্রনীতির আকর-গ্রন্থ কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’-কে তৎকালীন প্রজাহিতৈষী মৌর্য শাসকরা যে হেলাফেলা করেননি তা বুঝা যায় চানক্য-সহায়তায় মৌর্যশাসন প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের চব্বিশ বছরের শাসনকালের পরও দ্বিতীয় প্রজন্ম বিন্দুসারা'র জনপ্রিয়তা যাচাই করলে। তারও পরে এই মৌর্য বংশের তৃতীয় শাসক সম্রাট অশোকের শাসনকাল তো প্রতীকী স্থায়িত্ব পেয়ে আছে বর্তমান ভারতের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে প্রাচীন ও গভীর ঐতিহ্যবাহী অশোক-স্তম্ভের দৃশ্যমান অবস্থিতিতে। এমনকি আরো বহু পরে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্যের সমৃদ্ধিময় শাসনকালের কিংবদন্তীয় উপকথাগুলোর জনপ্রিয় লোকভাষ্য থেকেও তা ধারণা করা যায় হয়তো।

(০২) এই উপমহাদেশীয় প্রাচীন মাটির সন্তান আমাদেরই পূর্বপুরুষ চানক্য-পণ্ডিত বিষ্ণুগুপ্তের দার্শনিক কৌটিল্য হয়ে ওঠা বা যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’ রচনার কিংবদন্তীয় কাহিনী বর্ণনা করা যতোটা ইন্দ্রীয়সুখের ব্যাপার, একজন কৌটিল্যের উন্মেষের কার্য-কারণ সূত্র খোঁজাটা বোধ করি ততটাই জটিলতার বিষয়। তৎকালীন প্রাচীন ভারতোপমহাদেশীয় আর্থ-সামাজিক পটভূমিতে অনিবার্যভাবে একজন কৌটিল্যের উন্মেষ না ঘটলে সেসময়কার পরিবর্তন বা অপরিবর্তনহেতু শাসক-মানসের জ্ঞান-বিজ্ঞান স্পৃহা কতোটা ফলবতী হতো বা পরবর্তীকালের শাসকানুকুল্যে সমৃদ্ধ ভারতীয় সভ্যতা আদৌ কোন বাস্তবরূপ পেতো কিনা এবং অন্যান্য উন্নত সভ্যতার সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিনিময় সম্ভাব্যতা কেমন হতো সেসব হয়তো এখন কেবলি কুটতর্ক। তবে কৌটিল্যের কৌটিল্য হয়ে ওঠার পেছনে তৎকালীন ইউরোপীয় বা সুনির্দিষ্টভাবে গ্রিক সভ্যতার সাথে ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিনিময় ব্যবস্থার যথেষ্ট অবদান থাকার সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখার উপায় নেই। কেননা যে সময়টাতে কৌটিল্য ‘অর্থশাস্ত্র’ লিপিবদ্ধ করেন, এর খুব কাছাকাছি সময় পূর্বেই প্লেটোর আলোড়িত গ্রিক রাষ্ট্রদর্শনের জন্ম হয়েছে কেবল। এবং কৌটিল্যের সময়কালে এই দর্শনের বাণী বা প্রভাব গ্রিসের বাইরে ছড়াতে শুরু করেছে এমন ধারণাও করতে পারি আমরা।

গ্রিক দার্শনিক (Plato) প্লেটো (খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৭-খিষ্টপূর্ব ৩৪৭) আশি বছর বয়সে যখন মৃত্যুবরণ করেন তখন চানক্যের (খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০-খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৩) বয়স তথ্যানুযায়ী তিন বছর। তাছাড়া চানক্যের সময়কালে পাঞ্জাব যে গ্রিক আধিপত্যে ছিলো এবং গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের আকস্মিক মৃত্যুতে পাঞ্জাবে গ্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে গ্রিকদের জন্য সেই অস্থির সময়ে চানক্য মৌর্য শাসক চন্দ্রগুপ্তকে পাঞ্জাবে গ্রিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন। এছাড়াও খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্তের দরবারে অবস্থান করে তাঁর ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের মাল-মশলা সংগ্রহের ঘটনা চানক্যের সময়কালেই হয়েছিলো বলে ধারণা। ফলে গ্রিক সংস্কৃতির এতোটা স্পর্শে এসেও চানক্যের মতো অসাধারণ প্রতিভাবান পণ্ডিত-দার্শনিক যে গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে একটুও প্রভাবিত হননি সে কথা বলাটা বোধ করি খুবই অযৌক্তিক হবে। তবে এটাও আমাদের ধারণায় রাখতে হবে যে, জ্ঞান হচ্ছে বাতাসের মতো; চিন্তা-চেতনাকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা দেয় শুধু, চিন্তার শরীর পুষ্ট হতে প্রয়োজন অন্যকিছু।

প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস নিরক্ষর ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। কেননা তিনি নিজে কখনোই কিছু লিখে যাননি। তাঁর দার্শনিক শিষ্য প্লেটোর মাধ্যমেই আমরা রূপায়িত সক্রেটিসকে চিনি এবং জানি। ইউরোপীয় রাষ্ট্রদর্শনের উৎস বলে চিহ্ণিত প্লেটোর দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা বিষয়ক জগৎবিখ্যাত গ্রন্থ (Republic) ‘রিপাবলিক’-এ প্রধান চরিত্র সক্রেটিসের অদ্ভুত ও চমৎকার যুক্তিবিস্তারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের দর্শনসূত্র এবং একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কাল্পনিক রূপরেখা তৈরির যে চমৎকারিত্ব দেখানো হয়েছে তা অভূতপূর্ব। তবে গোটা দর্শনের মূল লক্ষ্যটাই ছিলো সত্য ও ন্যায়ের সন্ধান এবং এর মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলসূত্র ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের স্বরূপ কী হবে তা উপস্থাপন।

সৈয়দ মকসুদ আলী অনুদিত বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত নভেম্বর ১৯৭৩-এ প্রকাশিত ‘প্লেটোর রিপাবলিক’ গ্রন্থটির ‘প্লেটোর রাষ্ট্রদর্শন’ আলোচনায় অনুবাদকের বক্তব্যটি এরকম-
‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে প্রধানত ন্যায়ধর্ম (justice) বিষয়ে আলোচনা স্থান পেয়েছে। গ্রন্থের মূল চরিত্র সক্রেটিস যে সত্যটি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন তা হলো : অবিচার, অনাচার ও দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে দু’টি শক্তি, একটি সত্যাশ্রয়ী জ্ঞানী মানুষ এবং অপরটি ন্যায়ধর্ম। সত্য ও ন্যায়ের সন্ধান লাভ করতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে-সে পথ শিক্ষার, যার মাধ্যমে আত্মোৎকর্ষ লাভ করা যায়।

মজার বিষয় হচ্ছে, চানক্য-পণ্ডিত কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্রের’ মূল সংস্কৃত গ্রন্থটির নামের অর্থও নাকি দাঁড়ায় ‘পৃথিবীতে সাধারণ কল্যাণ বিষয়ক বিবরণী’। আর কল্যাণের সাথে খুব স্বাভাবিকভাবে ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টিই জড়িত থাকে। যেহেতু শাসকদের উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের পরামর্শ হিসেবে গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ হয়েছে, অতএব শাসকের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টিই বিবেচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। ‘অর্থশাস্ত্রে’র উপস্থাপনভঙ্গি যদিও ‘রিপাবলিকে’র মতো নয়, তবু প্লেটো ও কৌটিল্য উভয়েই ভিন্ন ভিন্নভাবে তাঁদের নিজেদের মতো করে মানব-চরিত্রের প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণে ব্রতী হয়েছেন। এবং এটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রচিন্তায় আসলে মানুষই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অনুঘটক। তবে দেশ কাল রাষ্ট্র পরিবেশ বিচারে মানুষের প্রকৃতি যেহেতু ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময়, তাই তাঁদের বিশ্লেষণধর্মিতাও ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পূর্বোক্ত ‘প্লেটোর রিপাবলিক’ গ্রন্থের অনুবাদকের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য-
‘গ্রিক দার্শনিকগণ, বিশেষত প্লেটো, মানবচরিত্রের বৈচিত্র্য তাঁর রিপাবলিক-এ যেরূপ সূক্ষ্মভাবে উন্মোচিত করেন তার তুলনা বিরল। প্রাচীন ভারতবর্ষে এ কাজটি আংশিকভাবে করেছেন ‘অর্থশাস্ত্রের’ রচয়িতা কৌটিল্য, এবং মহাচীনে কনফুসিয়াস, মেনসিয়াস।’

আরেকটা বিষয় বেশ কৌতুহলের দাবি রাখে। প্লেটোর ‘রিপাবলিকে’ একটি আদর্শ রাষ্ট্রের অধিকর্তা হিসেবে কেন দার্শনিকগণকেই মনোনীত করা উচিত, এর সপক্ষে যুক্তি বিস্তার করতে গিয়ে এক জায়গায় সক্রেটিস বলছেন-
‘আমার মতে দার্শনিকগণই রাষ্ট্রের অধিপতি হবার যোগ্য। কেবল তাই নয়, আমরা যাদের রাজা বা শাসক বলি তাদেরও প্রজ্ঞাশক্তিতে যথেষ্টভাবে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। বস্তুত রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দর্শনের মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে এবং যেসব সাধারণ স্বভাববিশিষ্ট লোকসমষ্টি যথেচ্ছাচারে লিপ্ত থাকে তাদের কঠোরভাবে সংযত করা না হলে রাষ্ট্র ত দূরের কথা, গোটা মানবজাতিও বিপদ-মুক্ত হতে পারবে না। এমন কি প্রিয় গ্লাউকন, আমরা যে আদর্শ রাষ্ট্রের বর্ণনা দিয়েছি তাও এরূপ অস্বাভাবিক অবস্থায় অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে। অনেকের কাছেই কথাটা হয়ত কূটাভাসের মতো শোনাবে; কেননা, আমি জানতাম তোমাদের মধ্যে অনেকেই আমার রাষ্ট্রকল্পনায় বিশ্বাসী নও এবং এজন্যেই হয়ত বিশ্বাস করতে পারছ না যে, রাষ্ট্রের বা ব্যক্তির কল্যাণ কেবল আমার প্রস্তাবিত পথেই আসতে পারে।’

বিষয়টা কাকতালিয় কিনা জানি না, চানক্যের উপরোল্লিখিত কিংবদন্তীয় জীবনেতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে, উপমহাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য তার বিশাল সাম্রাজ্য দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য একটি মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে গুরু চানক্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। আমরা এও জানতে পারি, এই সাম্রাজ্য পরিচালনায় গুরু চানক্যের পরামর্শ ও অবদানই মূখ্য ছিলো। আর অতি বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে এতো বড়ো ক্ষমতা পরিচালনা করেও ব্যক্তিগতভাবে চানক্য ছিলেন জাগতিক সমস্ত বিয়য়ের প্রতি একেবারেই নির্মোহ ও সন্ন্যাস জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। এমনকি সবসময় কৌপিন-বস্ত্র পরিধান ও শ্মশানবর্তী এক সাধারণ কুড়েঘরে অবস্থান করে শিষ্যদেরকে ন্যায় ও দর্শনশাস্ত্রে জ্ঞানশিক্ষা দান করতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন তিনি। প্লেটোর ‘রিপাবলিকে’ সক্রেটিস কথিত রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দর্শনের মধ্যে এমন অদ্ভুত সমন্বয়ক ভূমিকার উদাহরণ চানক্য ছাড়া আর রয়েছে কিনা জানা নেই।

বক্তব্যের স্পষ্টতার জন্য বলে রাখা জরুরি যে বক্ষ্যমান আলোচনার অর্থ এই নয় যে, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’কে গ্রিক রাষ্ট্রদর্শন বা ‘রিপাবলিক’ এর অনুসৃতি হিসেবে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। এ দুটোতে বরং ভিন্নতাই বেশি পরিলতি হয়। সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিবেশ পরিস্থিতি ও জনরুচি সাপেক্ষে এই ভিন্নতাটাই অধিকতর যৌক্তিক। ‘রিপাবলিকে’ মূলত একটি কাল্পনিক নগররাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা তৈরি যতটুকু প্রাধান্য পেয়েছে, অন্যদিকে ‘অর্থশাস্ত্রে’ প্রাধান্য পেয়েছে শাসকের কূটনীতি ও রাজ্যশাসন কৌশলের উৎকর্ষ অর্জন। তবে উভয়ক্ষেত্রে সাযুজ্য হলো শেষবিচারে একজন শাসকের ন্যায়পরায়ণ হয়ে ওঠা বা সর্বক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা। আর এখানেই বুঝি সেই কথাটাই প্রযোজ্য হয়ে ওঠে যা এ লেখায় বলার চেষ্টা করা হয়েছে- ‘গ্রেট ম্যান থিংক এলাইক’।

(০৩) প্রায় সমসাময়িক রাষ্ট্রচিন্তক বা দার্শনিক হিসেবে প্লেটো ও চানক্য তথা কৌটিল্য, দু’জনের মেধা-মননে গুণগত মিল থাকলেও তাঁদের নিজ নিজ যাপিত জীবন অনুযায়ী অবস্থানগত অমিলটাই লক্ষ্য করা যায় বেশি।

প্লেটো রাষ্ট্রীয় মতাবলয়ের বাইরে ও দূরবর্তী নিরীহ অবস্থানে থেকে রাষ্ট্রচিন্তায় ভাবিত একজন দার্শনিক। ধারণা, কল্পনা ও যুক্তিই হচ্ছে তাঁর দর্শন-সূত্র তৈরির মূল হাতিয়ার। অন্যদিকে ক্ষমতাবলয়ের প্রায় কেন্দ্রে অবস্থান ছিলো বলে চানক্য একেবারে নির্মোহ ও ঋষিস্বভাবী পণ্ডিত হলেও শাসক-মানসকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে একজন বাস্তববাদী রাষ্ট্রচিন্তক ও দক্ষ পরিকল্পনাবিদ হিসেবে চিন্তাকে বাস্তবায়নের সুযোগই তার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার ছিলো।

আবার সক্রেটিসের জবানিতে প্লেটো বিশ্বাস করতেন- ‘দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুতুল্য।’ অর্থাৎ কল্পনার বিমূর্ত চেহারায় তুষ্ট তিনি। অন্যদিকে সিদ্ধান্তে অটলস্বভাবী অসাধারণ দক্ষ পরিকল্পনাবিদ চানক্যের কাছে অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিলো না। নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে ছিলেন কঠোর। অর্থাৎ প্রয়োগযোগ্যতা ও মূর্ততাই তাঁর আরাধ্য।

তবে ভিন্ন প্রেক্ষিত থেকে যে ভিন্নতাটা সবচাইতে পীড়াদায়ক হয়ে দেখা দেয় আমাদের কাছে, তা হলো- প্রায় আড়াই হাজার বছরের ব্যবধানে এসেও বাস্তবতার মাটি না পাওয়া প্লেটোর ইউরোপকেন্দ্রিক একটা কাল্পনিক দর্শনকে খুব ভালোভাবে মনে রেখে এর অসম্ভব পরিচর্যা করে যেতে আমরা সক্ষম হলেও নিজস্ব রাষ্ট্রচিন্তা ও অসাধারণ পরিকল্পনাকে বাস্তবতায় রূপদানকারী আমাদের অত্যন্ত আপন একজন চানক্য পণ্ডিত কৌটিল্যকে ‘অর্থশাস্ত্রের’ দুষ্প্রাপ্রাপ্যতার মতোই আমরা ভুলতে বসেছি প্রায়। আর এখানেই বুঝি কৌটিল্য পুনঃবিশ্লেষণের দাবি রাখে।

(০৪) দর্শনের ক্ষেত্রে যেকোনো তত্ত্বের প্রকৃত ভিত্তি হচ্ছে এর প্রয়োগযোগ্যতা ও জনমানুষের চিন্তাবিশ্বের ধারাবাহিক বিবর্তনকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা। এ নিরিখে প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ কেবল একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কাল্পনিক স্বরূপ অন্বেষণই ছিলো না, তারচে’ও বহু বহু গুণে বেশি ছিলো মানবজাতির চিন্তাজগতে যুক্তির শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দর্শনসূত্র খোঁজার এক যুগান্তকারী পদ্ধতির উদ্ভাবন। এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমী’র প্রাক্তন মহাপরিচালক মযহারুল ইসলামের বক্তব্যকে প্রতিধ্বনিত করে বলা যায়-

‘বলা হয়ে থাকে যে সমস্ত ইউরোপের আধুনিক দর্শন প্লেটোর ফুটনোট মাত্র। কথাটিতে হয়তো কিছু অতিরঞ্জন দোষ আছে; কিন্তু প্লেটোকে বাদ দিয়ে আধুনিক সভ্যতার মর্মার্থ, বিশেষভাবে ইউরোপীয় দার্শনিক চিন্তাধারাকে যথাযথভাবে অনুধাবন করা যায় না। প্লেটোর পটভূমিকাতেই পরবর্তী দর্শন ও দর্শনসংশ্লিষ্ট মানবজ্ঞান প্রসার লাভ করেছে। প্লেটোর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ রিপাবলিক।… প্লেটো তাঁর রিপাবলিকের এক জায়গায় মন্তব্য করেছেন, আদর্শ রাষ্ট্রে কবিদের স্থান হতে পারে না। কারণ, কবিরা কল্পনাবিলাসী। কিন্তু প্লেটোর নিজের লেখাও কাব্যধর্মী। কাব্যধর্মী বলেই তার আবেদন হৃদয় স্পর্শ করে। রিপাবলিক শুধু দার্শনিক জ্ঞানের বিচিত্র চর্চায় সমৃদ্ধ নয়- এর উপস্থাপনরীতি উৎকৃষ্ট সাহিত্যের সূর্যালোকে সঞ্জীবিত।
দর্শন ও সাহিত্য, উভয়দিক থেকেই প্লেটোর অবদান বিস্ময়কর এবং অবিনশ্বর। প্লেটো সর্বকালের এক মহান প্রতিভা।’

অন্যদিকে কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ একধরনের সাহিত্যগুণসম্পন্ন দর্শন হলেও তাকে মূলত সাধারণজনস্পর্শ-বিচ্ছিন্ন প্রাচীন ভারতীয় রাজন্যবর্গের ন্যায়ানুগ রাজ্যশাসনের নিমিত্তে লিপিবদ্ধ অসাধারণ নীতিশাস্ত্র বা গাইডলাইন বলা চলে। সভ্যতার অনিবার্য গতিময়তায় সেই প্রতাপ বিকিরণকারী রাজন্যপ্রথার গতি-সঙ্কোচনের ফলে এটিকে হয়তো একটি জনবিচ্ছিন্ন সম্ভ্রান্ত রাজ-দর্শন হিসেবেই ইতিহাসের টেরাকোটায় অতিমহার্ঘ উপকরণের পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। এতে করে সমকালীন রাষ্ট্র ও কূটনীতি দর্শনে দক্ষ পরিকল্পনাবিদ কৌটিল্যের অসাধারণ পাণ্ডিত্য, মেধা, ন্যায়পরায়ণতা ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার স্বীকৃতি হয়তো এতটুকু ক্ষুণ্ন হয় নি বা হবে না, কিন্তু ইউরোপীয় চিন্তাদর্শনে নির্মিত আমাদের সর্বব্যাপী রাষ্ট্র-ভাবনা ও দর্শনে কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ যদি শেষপর্যন্ত ‘চানক্য-পণ্ডিতের কৌটিল্য-পুরাণ’ হিসেবেই এনটিক-মর্যাদায় স্থির হয়ে যায়, তাতেও বোধ করি আশ্চর্যের কিছু থাকবে না।
তবুও কৌটিল্য এবং ‘অর্থশাস্ত্র‘ একান্ত আমাদেরই এক ঐতিহ্য-সম্পদ।

কৃতজ্ঞতা ও তথ্যঋণ-সূত্র:
১) প্লেটোর রিপাবলিক/ অনুবাদ: সৈয়দ মকসুদ আলী/ বাংলা একাডেমী, ঢাকা, নভেম্বর ১৯৭৩।
২) রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য (ramkrishnabh.blogspot)
তথ্য উৎস: রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য কর্তৃক উল্লেখিত-
[Philosophy of Chanakya• Kautilya's Arthashastra (full 1915 Shamasastry text, divided into 15 books)• Kautilya: the Arthshastra - Chanakya's revered work• Philosophy and Biography]

লিখেছেনঃ রণদীপম বসু

Tuesday, February 11, 2025

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি

বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি নেয়া অত্যন্ত জরুরি, এবং এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। নিচে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হলো যা আপনাকে সময়মতো এবং সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।
১. সার্টিফিকেটের নামের মিল (𝑵𝒂𝒎𝒆 𝑪𝒐𝒏𝒔𝒊𝒔𝒕𝒆𝒏𝒄𝒚 𝒊𝒏 𝑫𝒐𝒄𝒖𝒎𝒆𝒏𝒕𝒔)
আপনার নিজের নাম এবং পিতামাতার নামের বানানে যদি কোনো ভুল থাকে, তা সংশোধন করুন। সার্টিফিকেট, জন্মসনদ এবং পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) নামের মিল থাকতে হবে।
• এটি শুধুমাত্র বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্যই নয়, আপনার ভবিষ্যতের অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। যেমন, ভিসা আবেদন বা পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় ভুল নামের কারণে সমস্যা হতে পারে।
২. পাসপোর্ট তৈরি (𝑷𝒂𝒔𝒔𝒑𝒐𝒓𝒕 𝑨𝒑𝒑𝒍𝒊𝒄𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏)
• পাসপোর্ট তৈরির সময় সার্টিফিকেট ও জন্মসনদ অনুযায়ী নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিন।
• আপনার জন্মসনদে যদি বর্তমান ঠিকানা বরিশাল থাকে, তবে পাসপোর্টেও একই ঠিকানা থাকতে হবে। কোনরকম ভুল থাকলে সেটি সংশোধন করা জরুরি। পাসপোর্ট সংশোধন করতে সময় লাগতে পারে, তাই আগেভাগে শুরু করা ভালো।
৩. 𝑺𝑺𝑪, 𝑯𝑺𝑪 এবং অন্যান্য একাডেমিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ (𝑪𝒐𝒍𝒍𝒆𝒄𝒕 𝑨𝒄𝒂𝒅𝒆𝒎𝒊𝒄 𝑫𝒐𝒄𝒖𝒎𝒆𝒏𝒕𝒔)
• আপনার SSC এবং HSC পরীক্ষার নম্বরপত্র এবং সার্টিফিকেট বোর্ড থেকে সংগ্রহ করুন।
• যদি আপনি মাস্টার্সে যেতে চান, তবে অনার্সের সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
৪. সার্টিফিকেট সত্যায়িত করা (𝑫𝒐𝒄𝒖𝒎𝒆𝒏𝒕 𝑨𝒕𝒕𝒆𝒔𝒕𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏)
• আপনার সমস্ত সার্টিফিকেট শিক্ষা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত (attested) করানো জরুরি। এটি বিদেশে ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হতে পারে। সত্যায়িত করার জন্য সময় লাগতে পারে, তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ভালো।
৫. 𝑰𝑬𝑳𝑻𝑺 প্রস্তুতি (𝑰𝑬𝑳𝑻𝑺 𝑷𝒓𝒆𝒑𝒂𝒓𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏)
• IELTS বা TOEFL পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন। যদি আপনি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতে চান, তবে এই পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
• IELTS পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত স্কোর তুলতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে, এবং দেরি করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বা সেশন মিস হতে পারে। এজন্য আগেভাগে প্রিপারেশন শুরু করুন।
৬. স্কলারশিপ এবং অন্যান্য পরীক্ষার প্রস্তুতি (𝑺𝒄𝒉𝒐𝒍𝒂𝒓𝒔𝒉𝒊𝒑 & 𝑬𝒙𝒂𝒎 𝑷𝒓𝒆𝒑𝒂𝒓𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏)
• স্কলারশিপে পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলে আন্ডার-গ্র্যাজুয়েটের জন্য SAT/ACT এবং স্নাতকোত্তরের জন্য GRE/GMAT পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করুন।
• এই পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রিপারেশন নিয়ে আগেই ভালোভাবে জেনে প্রস্তুতি শুরু করা উচিত, কারণ এসব পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন।
৭. রেকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ (𝑪𝒐𝒍𝒍𝒆𝒄𝒕 𝑹𝒆𝒄𝒐𝒎𝒎𝒆𝒏𝒅𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏 𝑳𝒆𝒕𝒕𝒆𝒓𝒔)
• আপনাকে ভালোভাবে জানেন এমন দুইজন শিক্ষক বা প্রফেসরের কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করে রাখুন। অনেক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে রেকমেন্ডেশন লেটার প্রয়োজন হয়।
৮. 𝑺𝑶𝑷 লেখার প্রস্তুতি (𝑺𝑶𝑷 𝑷𝒓𝒆𝒑𝒂𝒓𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏)
• বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়ায় SOP (Statement of Purpose) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে লেখা।
• SOP লেখার জন্য সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিন। অভিজ্ঞ ভাই বা ফেসবুক গ্রুপের সাহায্য নিয়ে নিজস্ব ভাষায় SOP লিখুন, যাতে এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে সঠিকভাবে তুলে ধরে।
৯. বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন (𝑼𝒏𝒊𝒗𝒆𝒓𝒔𝒊𝒕𝒚 𝑺𝒆𝒍𝒆𝒄𝒕𝒊𝒐𝒏)
• আপনার পছন্দের দেশ এবং বিষয় বিবেচনা করে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিন। যে কোর্সে পড়তে চান, সেটি আপনার পূর্ববর্তী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিল থাকা উচিত। যেমন, সায়েন্স থেকে এইচএসসি করলে সায়েন্সের সাথে সম্পর্কিত বিষয় নির্বাচন করা উচিত।
১০. বাজেট এবং বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন (𝑩𝒖𝒅𝒈𝒆𝒕 & 𝑼𝒏𝒊𝒗𝒆𝒓𝒔𝒊𝒕𝒚 𝑪𝒉𝒐𝒊𝒄𝒆)
• আপনার বাজেট এবং পছন্দের শহর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করুন। বিভিন্ন দেশে থাকা খরচ এবং টিউশন ফি একেক রকম হতে পারে, তাই সেগুলো মাথায় রেখে বেছে নিন।
১১. বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ডেডলাইন মেনে চলা (𝑼𝒏𝒊𝒗𝒆𝒓𝒔𝒊𝒕𝒚 𝑨𝒑𝒑𝒍𝒊𝒄𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏 𝑫𝒆𝒂𝒅𝒍𝒊𝒏𝒆𝒔)
• পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবেদন ডেডলাইনের দিকে খেয়াল রাখুন এবং সময়মতো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। অনেক সময় ভিসা বা আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে, তাই আগেভাগেই শুরু করা ভালো।
১২. ভলেন্টিয়ার সংগঠনে যুক্ত হওয়া (𝑱𝒐𝒊𝒏 𝑽𝒐𝒍𝒖𝒏𝒕𝒆𝒆𝒓𝒊𝒏𝒈 𝑶𝒓𝒈𝒂𝒏𝒊𝒛𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏𝒔)
• ভলেন্টিয়ার কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এটি আপনার আবেদন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে স্কলারশিপ পেতে বা ভিসা ইন্টারভিউতে আপনার ভলেন্টিয়ার কাজের অভিজ্ঞতা বাড়তি পয়েন্ট যোগ করতে পারে।
১৩. রান্না শেখা (𝑳𝒆𝒂𝒓𝒏 𝑪𝒐𝒐𝒌𝒊𝒏𝒈)
• বিদেশে গেলে বেশিরভাগ সময় আপনাকে নিজের খাবার নিজেই তৈরি করতে হবে। তাই রান্না শিখে যাওয়া খুবই জরুরি। আপনার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাবারগুলো কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা আগে থেকেই শিখে নিন।
১৪. ড্রাইভিং শেখা (𝑳𝒆𝒂𝒓𝒏 𝑫𝒓𝒊𝒗𝒊𝒏𝒈)
• যদি সম্ভব হয়, ড্রাইভিং শিখে নিন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে রাখুন। আপনি চাইলে আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্সও তৈরি করে নিতে পারেন, যা বিদেশে গাড়ি চালাতে কাজে লাগবে।
১৫. কম্পিউটার স্কিল উন্নয়ন (𝑼𝒑𝒈𝒓𝒂𝒅𝒆 𝑪𝒐𝒎𝒑𝒖𝒕𝒆𝒓 𝑺𝒌𝒊𝒍𝒍𝒔)
• বিদেশে পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন সময়ে কম্পিউটার স্কিল যেমন মাইক্রোসফট অফিস, ওয়ার্ড, এক্সেল এবং পাওয়ারপয়েন্ট প্রয়োজন হতে পারে। এগুলো আগে থেকেই শিখে রাখুন এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করুন।
এই ১৫টি ধাপ আপনাকে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগেই সঠিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে এবং ভিসা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজে মানিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

Sunday, February 9, 2025

জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো

জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী একটি লেখা।

সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, "Compound Interest হল এই পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য্য"।
.
উনার এই কথার সাথে একমত হয়ে SUCCESS Magazine- এর Publisher Darren Hardy একটি বই লিখেন The Compound Effect নামে, যেটি The New York Times Bestseller.
.
এই বইটিতে কিছু চমৎকার Key Idea আছে যা আমাদের সবাইকে একটা Perfect Life Resolution বানাতে সাহায্য করতে পারে।
.
আচ্ছা বলুনতো,
কোন মানুষের Successful বা Failure হওয়ার পিছনে Root Factor হিসেবে কাজ করে কোনটা? তার ছোটবেলা, সে কিভাবে বড় হয়েছে, তার পরিবেশ নাকি অন্য কিছু?
.
লেখকের মতে সেই Root Factor হল তার নিজের নেয়া ছোট ছোট চয়েজগুলো।
.
এই পুরো পৃথিবীতে শুধুমাত্র একটাই জিনিস আছে যেটা যদি আমরা চাই তাহলে পুরোপুরিভাবে কন্ট্রোল করতে পারি, সেটা হচ্ছে আমাদের চয়েজ। আর এই চয়েজগুলোই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আউটকামের জন্য দায়ী।
.
আপনি যদি ইচ্ছা করেন তাহলে অফিস থেকে ফেরার পর জিমে যেতে পারেন বা সোফাতে শুয়ে টিভিও দেখতে পারেন। আপনি যদি চান কোন কারনে আপনার বউয়ের সাথে ঝগড়া হওয়ার পর সবকিছু ভুলে পিছনে ফিরে তাকে জড়িয়ে ধরতে পারেন বা আপনার ইগোকে প্রশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে বেড়িয়েও আসতে পারেন।
.
এরকম ছোট ছোট চয়েজগুলোই আমাদের সবকিছুর আউটকামগুলোকে নির্ধারন করে: আপনি সারাজীবন সুস্থ্য থাকবেন নাকি রোগের বয়ে বেড়াবেন, আপনি একটা দীর্ঘ এবং মধুর সম্পর্ক পাবেন নাকি আপনার মেয়েকে জবাব দিতে হবে কেন তার মাকে আপনি ডিভোর্স দিয়েছিলেন।
.
কিন্তু আমরা এরকম ছোট ছোট চয়েজগুলোতে বেশি মন দিই না, যদি আমি আপনাকে এখন দুটো অপশন দেই: আপনাকে এখন ১ টাকা দিব যেটা আগামী ১ মাস প্রতিদিন দিগুন হবে অথবা এখনই একবারে ১০ কোটি টাকা দিব; তাহলে আপনি এর মধ্যে কোন অফারট নিতে পছন্দ করবেন।
.
বেশিরভাগ মানুষই, হয়তো প্রায় সবাই ২ নাম্বার অপশন অর্থাৎ ১০ কোটি টাকাই নিবে। আচ্ছা তাহলে আমি ১ নাম্বার অফারটা নিজের কাছে রেখে দিলাম। এবার দেখা যাক ১ মাস পর এর আউটকাম কি আসে।
.
৫ দিন পর আমার কাছে আছে ১৬ টাকা আর আপনার কাছে ১০ কোটি। ১০ দিন পর আমার কাছে আছে ৫১২ টাকা আর আপনার কাছে সেই ১০ কোটি। ২০ দিন পর আমার কাছে ৫,২৪,২৮৮ আর আপনার কাছে সেই ১০ কোটি টাকা। আপনি এত টাকায় অনেক মজাতেই আছেন।
.
এবার ৩১ দিন পর আপনার কাছে আছে এখনো সেই ১০ কোটি কিন্তু আমার কাছ আছে ১০৭,৩৭,৪১,৮২৪ অর্থাৎ ১০৭ কোটি টাকা। যেটা কিনা আপনার থেকে ১০ গুন বেশি।
.
এবার তো বুঝা যাচ্ছে আইনস্টাইন কেন Compound Interest ব্যাপারটাকে 8th Wonder of World বলেছেন। সাকসেস জিনিসটাও ঠিক এই প্যাটার্নটাই ফলো করে।
.
Darren Hardy বলেছেন, "After 31 months or 31 years, the person who uses the positive nature of the compound effect appears to be an overnight success."
.
যেমন রুপক অর্থে রাশেদ, বিজয়, জুয়েল তিন বন্ধুর উদাহরন দেখা যাক। তিনজনই একরকম পরিবেশে বড় হয়েছে, একই জায়গায় থাকে আর ইনকাম মোটামুটি একই রকম। আর হ্যা ধরা যাক তিনজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে এবং সবারই ওয়াইফের সাথে একটু মনোমালিন্য চলছে।
.
নতুন মাস বা বছরের শুরু থেকে রাশেদ সবসময় যা করে সেটাই করতে থাকল, কারন তার মনে হয় এটাতেই সে খুশী আছে। হ্যা শুধু কখনো কখনো সবার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করা শুরু করল।
.
অন্যদিকে বিজয় একটি Daily Checklist বানিয়ে নিজের মধ্যে কিছু ছোট ছোট Insignificant Positive Change আনা শুরু করল। যেমন-
১- প্রতিদিন ঘুমানোর আগে একটা ভাল বইয়ের ১০ পৃষ্ঠা পড়া।
২- প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার বা ফেরার সময় গাড়িতে বসে বা সুবিধামত সময়ে ৩০ মিনিট কোন Self Help/Motivational ভিডিও দেখা।
৩- নিজের ডেইলি ডায়েট প্ল্যান থেকে ১২৫ ক্যালরি কমালো।
৪- প্রতিদিন এক্সট্রা অন্তত ২ লিটার পানি খাওয়া।
৫- প্রতিদিন ১ মাইল হাটা।
৬- ব্যবসায়ীক স্বার্থ জড়িত প্রতিদিন অন্তত এমন ২/১ জনকে ফোন দিয়ে খোজখবর নেয়া বা সম্পর্কোন্নয়ন।
৭- নিজের বউকে নিয়ে প্রতি সপ্তাহে শুধুমাত্র ১ দিন বাইরে ডিনারের জন্য যাওয়া।
.
এবার অন্যদিকে জুয়েল কিছু ছোট ছোট Insignificant Negative Change আনা শুরু করল। যেমন:
১- প্রতিদিন লাঞ্চে একটু করে জাংকফুড খাওয়া।
২- কাজের চাপের অজুহাতে সপ্তাহে ৩/৪ দিন জিম মিস দেয়া।
৩- প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার সময় ১ বোতল কোল্ডড্রিঙ্কস খাওয়া।
৪- টিভিতে ফেভারিট শো দেখার জন্য ইভিনিং ওয়াক বন্ধ করে দেয়া।
৫- সময়ের অভাবের অজুহাতে অফিসিয়াল যোগাযোগ কমিয়ে দেয়া।
৬- ব্যস্ততার অজুহাতে বউয়ের সাথে বাইরে যাওয়াও বন্ধ করে দিল।
.
পরব্ররতী ৫ মাসে ৩ বন্ধুর তেমন কোন পার্থক্য দেখা গেল না। ১০ মাস পরেও একই। এবার বিজয় একটু একটু ফ্রাস্ট্রেট হতে লাগল। কেননা এখনো সে কোন পজটিভ রেজাল্ট দেখতে পায়নি তাও সে কোনরকমে জেদ ধরে চালিয়ে গেল, যেখানে জুয়েল কম কাজ করে জীবনকে উপভোগ করতে থাকল। আর রাশেদও খুশিতেই আছে।
.
কিন্তু ২৫ মাস পর হঠাৎই এদের মধ্যে কিছুটা বড় পার্থক্য দেখতে পাওয়া গেল, আর ২৭ মাস পর সেটা আরো ক্লিয়ারলি দেখতে পাওয়া গেল।
.
And after 31 months the differences become poles apart.
.
রাশেদ এখন আরো বেশি কম্পলেইন করে সবার ব্যাপারে। সে বেশিরভাগ সময়ই Bore এবং Purposeless অনুভব করে।
.
জুয়েল রোজ একটু একটু জাংকফুড খেয়ে এবং জিম বাদ দিয়ে ১৫ কেজি ওজন বাড়ালো, সাথে নানান রোগব্যাধি। যোগাযোগ কমিয়ে দেয়ার ফলে বিজনেসের অবস্থাও খারাপ হতে লাগল। ফলস্বরূপ আর্থিক অবস্থাও খারাপ হয়ে গেল সেই সাথে বউয়ের সাথেও সম্পর্ক খারাপ হয়ে ডিভোর্সের পর্যায়ে চলে গেল।
.
Small negative changes compounded for 31 months brought a horrific result.
.
এবার আসা যাক বিজয়ের ব্যাপারে। এই ৩১ মাসে সে প্রায় ৫০ টি বই এবং ৪৬৫ ঘন্টা উপকারী ভিডিও দেখে নিয়েছে যেটাতে তার Knowledge & Wisdom দুটোই আগের থেকে অনেকগুণ বেড়ে গেল।
.
প্রতিদিন শুধু ১২৫ ক্যালরি কমিয়ে আর ১ মাইল হেটে ১৫ কেজি ওজন কমালো যে কারনে সে এখনো আগের মতই স্লিম আর হ্যান্ডসাম। প্রতিদিন মাত্র ২ লিটার পানি খেয়ে মোট প্রায় দুই হাজার লিটার পানি খেয়ে নিল যা কিনা তার নিজের ভিতরে অনেক রোগকে বেড়ে ওঠা কমিয়ে দিল।
.
আর প্রতিদিন মাত্র দুইটা কল করে সে মোট ১৮০০ কল দিল যাতে সম্পর্ক ভালো হল ফলে বিজনেসও বাড়তে থাকল।
সপ্তাহে মাত্র একদিন বউকে ডিনারে নিয়ে গিয়ে মোট ১২৪ টা ডিনার ডেট করে ফেলল, যাতে তার বউ খুশী হল, নিজেদের সম্পর্কটাও মজবুত হল।
.
Strong insignificant changes compounded for 31 months brought an outstanding result for him.
.
.
কিন্তু!!
যদি সাকসেস পাওয়া এতটাই সোজা হয় আর আমরা সবাই প্রসেসটাও জানি, তাহলে কেন আমরা এই সূত্রটা ফলো করতে ব্যর্থ হয়ে যাই?
.
লেখকের মতে চারটি ফাঁদ আছে যার কারনে আমরা ব্যর্থ হই বা Consistency ধরে রাখতে পারি না।
.
1- Starting Results Are Invisible
.
ভাবুন যদি আপনি আজ একটা বার্গার খান আর পরদিন সকালে ১৫ কেজি ওজন বাড়িয়ে ঘুম থেকে ওঠেন তাহলে কি আপনি কোনদিনও একটা বার্গার খেতেন? অথবা আজ একটি সিগারেট খান আর পরদিন সকালে আপনি গলায় ক্যান্সার নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন, তাহলে কি আপনি কোনদিনও একটা সিগারেট খাওয়ার সাহস করতেন?
.
কিন্তু সমস্যাটা হল শুরুতে কোন পরিবর্তনই চোখে ধরা পরে না। কিছু মাস বা কিছু বছর পর হঠৎ যেন রাতারাতি কিছু ভয়ানক ফলাফল সামনে এসে যায়, যতক্ষণে সেটাকে আটকানোর আর সুযোগ থাকে না।
.
এই ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে সবসময় এটা মনে রাখতে হবে, "Every choice you make ignites a butterfly effect" মানে আপনাকে সতর্ক হয়ে প্রতিটা চয়েজ মন দিয়ে নিতে হবে।
.
2-Deceptiveness
.
লস এঞ্জেলসগামী কোন বিমান যদি ১ ডিগ্রিও Off Route হয়ে যায় তো সেই প্লেন লস এঞ্জেলস থেকে ১৫০ মাইল দূরে অন্য কোন দ্বীপে গিয়ে ল্যান্ড করবে। এবার আপনি ভাবুন যদি আপনিও নিজের জীবনে শুধুমাত্র ১ ডিগ্রীও Off Route হয়ে যান ১০ বা ১৫ বছরের জন্য, তাহলে জীবনের কোথায় গিয়ে ল্যান্ড করবেন!
.
এটা থেকে বাঁচার জন্য একটা গাইডলাইন থাকা খুবই দরকার। যেমন একটা Daily Checklist যেটা একটা ফুটপ্রিন্টের মত আপনাকে On Track থাকার জন্য সাহায্য করবে। যদি আপনি কোন কারনে কিছুদিনের জন্য অফট্র্যাক হয়েও যান তখন এই চেকলিস্টটা আপনাকে অন ট্র্যাকে ফিরে আসার জন্য অনেকটা সাহায্য করবে।
.
3- Immediate Gratification
.
আপনার কাছে দুটো অপশন আছে, ডিনারের পর আপনি একটা হট চকলেট কেক খেতে পারেন বা শুধু ১ গ্লাস পানি খেতে পারেন। আপনি পানি বেছে নিলেন আর আপনার একটা বন্ধু নিল কেক। বন্ধু খুব আনন্দে ওই কেকটাকে আপনার চোখের সামনে মজা করে খেতে লাগল। আর এদিকে আপনি শুধু পানি খাচ্ছেন যেটার এতটুকুও কোন স্বাদ নেই। তখন কেমন লাগবে আপনার?
.
এটাই ফাঁদ!
যদি আপনি শর্ট টার্মে দেখেন তাহলে কোন ভাল চয়েজ বেছে নিলে তাতে আপনি কিছুই পান না কিন্তু যদি একটা খারাপ চয়েজকে বেছে নেন তাহলে আপনি অনেক খুশী আর মজা লাভ করেন।
.
Which is a great paradox.
.
যেমন Darren Hardy বলেছেন,
"Short term pleasures create long term pains and short term pains create long term pleasures.
.
জীবনে একবার তো আপনাকে কষ্ট করতেই হবে, আপনি এটাকে Skip করতে পারবেন না। এই কষ্ট দুই ধরনের হয়: Pain of Discipline এবং Pain of regret.
কিন্তু ডিসিপ্লিনের কষ্টে ওজন শুধু কয়েক গ্রাম এবং কিছুদিনের যেখানে রিগ্রেটের কষ্টের ওজন কয়েক টন এবং আজীবনের।
এবার চয়েজ আপনার।
.
4- What is easy to do is also not easy to do.
.
চেকলিষ্ট Maintain করা, প্রতিদিন শুধুমাত্র দুই বোতল পানি খাওয়া, ১ মাইল হাটা; এইসব কাজ করা খুবই সহজ।
হ্যা সহজ তো বটেই কিন্তু এটা করা অনেকটা মুশকিলও।
.
লেখক বলেছেন শুধুমাত্র একটা জিনিস এরকম আছে যেটা Successful এবং Unsuccessful দুধনের লোকেদের মধ্যেই Common, তাদের কেউই ভাল চয়েজটা বেছে নিতে ভালবাসে না।
.
হ্যা এটাই সত্যি!
হট চকলেট কেকের পরিবর্তে শুধু স্বাদহীন পানি খেতে কেউই ভালবাসে না, কিন্তু সাকসেসফুল লোকেরা তাও যেকোন ভাবে তাদের Will Power বা নিজের Why Power- কে কাজে লাগিয়ে সেই কাজটা করে নেয়।
.
যেমন মোহাম্মদ আলী বলেছেন,
"I hated every minute of training but I love being a world champion."
.
তো এই ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য আপনার ওই Why টাকে খুজে বের করতে হবে। এই Why যত পাওয়ারফুল হবে আপনিও ততটাই পাওয়ারফুল হবেন।
.
So prepare a Checklist on daily basis, which will guide you throughout the year to stay on the right track.
.
One thing is fixed that you can never escape from the compound effect, either u earn it or you pay for it.
Collected

Saturday, February 8, 2025

আসসালামুয়ালাইকুম ভাই, আমি আপনার সাথে দেখা করিতে চাচ্ছিলাম যে কারণে, তা আমি এখানে কিছুটা ধারণা দিলাম।

আমি কিছু দিন আগেই চাকরি ছেড়েছি। ব্যবসা করব ভেবেছি; কিন্তু কি দিয়ে আরাম্ভ করব বুঝতে পারছি নাহ। আমি নিজে জড়িত হয়ে আপাতত ২-৫ লক্ষ টাকা ও পরবর্তীতে প্রয়োজনে আরো ইনভেস্ট বাড়ানো যাবে।

তবে বিভিন্ন শর্তের  সাথে প্রথম শর্ত হল ব্যবসা তে আমি নিজে যুক্ত থেকে কাজ করব।

এই ব্যাপারে কি আপনার ফোরাম থেকে কোন হেল্প পাওয়া যাবে?


=========

invest করবো + তার সাথে ফিল্ড এ কাজ করবো।
Location : ঢাকা মিরপুর
এমাউন্ট : আপাতত ৫০ হাজার
রানিং বিজনেস ফুড কার্ট অথবা অন্য যেকোনো বিজনেস যেটা থেকে মোটামুটি ভালো রিটার্ন আসে, এরকম কোনো বিজনেস এ আমি পার্টনার ইনভেস্ট করতে চাই
============

প্রফিটেবল ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে চাই।
লোন না, মালিকানার বিনিময়ে কেও আগ্রহী থাকলে জানাবেন।
ঢাকার মধ্যে হতে হবে,
নূন্যতম ৩ বছর+ লাভজনক চলমান ব্যবসা হতে হবে,
উৎপাদনশীল প্রজেক্ট প্রায়োরিটি পাবে।
ধন্যবাদ।
====================

আসসালামু আলাইকুম। পোস্ট ফরমেট : আপনার নিজের পরিচয় : নাম: islam autos ব্যবসার বয়স: 6years + লোকেশন: Ishwardi,pabna ব্যবসায়ের পরিচিতি : কিসের ব্যবসা: spare patrs প্রডাক্ট: All type motorcycle parts ক্লাইন্ট: retailer and wholesalers এই ব্যবসায়ের ভবিষ্যত সম্ভাবনা কেমন : মাসিক সেল কেমন হয় : more than 10,00,000/- +- প্রফিট মার্জিন / লাভ কেমন থাকে: 15-20% বিনিয়োগ কেন প্রয়োজন : I want to expand my business (Clients). কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন : 10.00 core ( for export and import) বিনিয়োগ রিটার্ন (ROI): I am willing to pay 1500/- per lac bdt monthly basis. বিনিয়োগের মেয়াদকাল : 1 / 2 years. বিনিয়োগের সিকিউরিটি : Deed agreement and bank cheque with amount mentioned. যোগাযোগ : Inbox me

====================

প্রতিটি বাবা-মা এর মন হয়তো এই কথাগুলোই বলে

প্রিয় সন্তান, আমি যখন বার্ধক্যে উপনীত হবো, আমি আশা করবো “তুমি আমাকে বুঝবে এবং আমার সাথে ধৈর্যশীল হবে”, ধরো আমি যদি হঠাৎ থালা ভেঙ্গে ফেলি, অ...